, সোমবার, ৪ জুলাই ২০২২

প্রকাশ :  ২০২২-০৬-০৪ ১০:২৯:৫১

সবাই ঘুমিয়ে থাকলে ও শেখ হাসিনার সরকার থাকতে পারবে না: গয়েশ্বর

অঙ্গীকারের প্রতি দেশের জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক শক্তির সাহস, আস্থা ও মনোবল অটুট থাকলে বিনাযুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে জয় লাভ করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শনিবার (৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে শ্রমিকদলের উদ্যোগে ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলে দেশের গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল ও শক্তিসমূহ অঙ্গীকার করেছে। এই অঙ্গীকারের প্রতি দেশ ও জনগণের কথা মাথায় রেখে আস্থা, বিশ্বাস এবং মনোবল ঠিক রাখা গেলে সরকারের বিরুদ্ধে বিনাযুদ্ধে আমরা জয়লাভ করতে পারবো।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর সকালেও সৈনিকরা জানতো না একটু পরে পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জানতেন না এরশাদকে পদত্যাগ করতে হবে। আজকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিচের দিকের নেতাকর্মীদের আস্ফালন দেখে মনে হচ্ছে তারাও জানেন না তাদের নেত্রী কখন আত্মসমর্পণ করে এরশাদের মতো পদত্যাগ করবেন।

‘এই অবুঝ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বলি, রাস্তায় নেমে আমাদের ওপর আক্রমণ অথবা মারামারি ও গোলাগুলি করার আগে আপনার নেত্রীর কাছে কানে কানে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি আত্মসমার্পন করবেন না? যদি করেন তো কখন? তারিখটা খুব কাছাকাছি। ১৩ বছর যেহেতু আমরা অপেক্ষা করছি, কয়েকটা দিন বা মাস এটা তো অনেক দিন না।’

তিনি বলেন, কারণ, রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য বড় শক্তি অর্থনৈতিক ম্যানেজমেন্ট। এর মধ্যে দেখা গেছে ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা নেই, শেয়ার মার্কেট থেকে প্রায় ৯০ লাখ কোটি টাকা নাই- এভাবে অর্থনৈতিক অবস্থা শূন্য হয়ে গেছে। আগে তো তলাবিহীন ঝুঁড়ি ছিল, এখন হয়তো দেখা যাবে তলা আছে ঝুঁড়িই নেই। সুতরাং এই অবস্থার মধ্যদিয়ে দেশ পরিচালনা করা খুব কষ্টের।

গয়েশ্বর বলেন, অর্থনীতির স্বাভাবিক একটা সূচক আছে, আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ৪ অথবা ৫ মাসের রিজার্ভ থাকলে তা ইতিবাচক বলা যায়। কিন্তু তা নেই। যদি থাকতো তাহলে ব্যবসায়ীদের এলসি খুলতে ৭০ শতাংশ মার্জিন দিতে হতো না। আবার ব্যাংকের যে ডলারের মূল্য, তার সঙ্গে বাইরের যে মূল্য ছিল দুই-তিন টাকা কম-বেশি। কিন্তু এখন ব্যাংকের চেয়ে বাইরে ১২ টাকা কম-বেশি। এই অবস্থায় বাইরে থেকে ডলার কিনে ৭০ শতাংশ মার্জিন দিয়ে এলসি খোলা হয়, স্বাভাবিকভাবে পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বেড়ে যায়। সে কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শ্রমিক ছাটাই। নতুন কোনো উৎপাদন ক্ষেত্র বা শিল্পকারখানা হচ্ছে না। অর্থনৈতিকভাবে এই সরকার অনেকটা দেউলিয়া।

এই বিএনপি নেতা বলেন, যত টাকা ধার করা হয়েছে উন্নয়নের নামে, তার সিংগভাগ টাকা পাচার করা হয়েছে, সেই ধারের টাকার সুদ দিতে হবে দুই বছর পরে। এই সুদের টাকা এই সরকারের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। এ কারণে জিনিসপত্রের দাম কমানো যাবে না, মানুষের হাহাকার এবং অভাব-অটন দেখা দিয়েছে, এটা তীব্র থেকে তীব্র হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আঘাতের পর আঘাত করে, পুলিশ দিয়েও আমাদের দমন করা সম্ভব হবে না। এই সরকারের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

গয়েশ্বর বলেন, আমাদের অঙ্গীকারের সঙ্গে অন্যান্য জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল যারা এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বলে অঙ্গীকার করেছে, সবাই যদি বাড়িতে ঘুমিয়েও থাকি, তারপরও শেখ হাসিনার সরকার থাকতে পারবে না। কারণ তার পক্ষে আরেকটি নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের মতো জ্বালাও-পোড়াও, হরতাল-অবরোধ নাই-ই করলাম, কিছুই দরকার নেই। এই সরকারের অধীনে শুধুমাত্র গণতন্ত্রমনা মানুষ অংশগ্রহণ না করলে হেলিকপ্টারে করে দেশত্যাগে বাধ্য হবে তারা। তাই ভোটাধিকারের আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, হুমায়ুন কবির খান প্রমুখ।

আরো সংবাদ