, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

সোমবার

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০১৮-০৩-০৫ ১২:২৬:১১

রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র টর্পেডো : বাস্তব না নির্মাণাধীন প্রকল্প মাত্র ?

নিউজ ডেস্ক, বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম.

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কয়েকদিন আগে তার দেশের নতুন পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার বিষয়ে চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরে ভাষণ দিয়েছেন। এর পরে অনেকেই বলছেন, তার এমন ঘোষণায় আভাস পাওয়া যায়, রুশ-মার্কিন সম্পর্ক উষ্ণ হবার কোন আশু সম্ভাবনা এখন আর নেই।

কিন্তু এসব অস্ত্র কি আসলেই বাস্তবে তৈরি হয়েছে বা তাদের হাতে আছে? নাকি এগুলো কল্পনা বা নির্মাণাধীন প্রকল্প মাত্র? বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্ভবত এ আশা ছেড়েই দিয়েছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার কোন ঘনিষ্ঠ সমঝোতা গড়ে উঠবে।

যেভাবে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার আধুনিকায়নের কথা বলছে, তাতে অনেকেই স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের কথা মনে করে উদ্বিগ্ন বোধ করবেন।

আরো উদ্বেগের বিষয় যে, নতুন নতুন সামরিক প্রযুক্তির কথা এমন এক সময় বলা হচ্ছে যখন বর্তমান অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে।

মনে রাখতে হবে অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণের নানা চুক্তির পরও এখনো রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যে পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র আছে তা দিয়ে গোটা পৃথিবীকে কয়েকবার ধ্বংস করা যাবে।

বিশেষ করে ওয়াশিংটন ক্ষেপণাস্ত্ররোধী যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা বলছে তা রাশিয়াকে চিন্তিত করে তুলেছে। যদিও অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞই বলছেন, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফলে রাশিয়ার সক্ষমতা কমে যাবে, এমনটা তারা মনে করেন না।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট পুতিন তার যে নতুন পারমাণবিক অস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন, এগুলো তৈরিই হয়েছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্ররোধী ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেবার কথা মাথায় রেখে। এর মধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র আছে যা মহাকাশ দিয়ে যাবেনা বরং যাবে সমুদ্রের পানির তলদেশ দিয়ে। এটা হচ্ছে এক ধরণের টর্পেডো। যার মাথায় পারমাণবিক বোমা বসানো থাকবে।

রাশিয়ার আরেকটি অস্ত্র হচ্ছে নতুন এক ধরণের আন্তমহাদেশীয় পারমাণবিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। যা এত দ্রুত উড়বে বা এমনভাবে উড়বে যাতে তাদের মাঝপথে ঠেকিয়ে দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। শুধু রাশিয়া নয়, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনও নাকি এরকম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য কাজ চালাচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে পুতিন যাই বলুন না কেন, রাশিয়া আসলে এখনো এগুলো তৈরির পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হতে অনেক বছর লাগবে। জোনাথন মার্কাস বলেন, এখন আমরা যা শুনছি এটা মূলত বাগাড়ম্বর।

ট্রাম্প এর আগে বেশ গর্ব করে বলেছেন, আমেরিকার পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার সবার চেয়ে বড়। পুতিনও এখন ঠিক তাই করছেন, বলছেন- রাশিয়ার যে অস্ত্র আছে তা আর কারো নেই।

আরো সংবাদ