, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

প্রকাশ :  ২০২০-১০-০৩ ১৭:১৪:৪৭

এএসপির নিখুঁত পরিকল্পনায় মামলা দায়েরের ৬ ঘণ্টা না পেরোতেই পুলিশের জালে ধর্ষক

মুহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম :  চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বড় বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে কিশোরী ছোটবোনকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলাধীন গাবতল নিবাসী আব্দুশ শুক্কুর ওরফে লেবার শুক্কুরের পুত্র সাজ্জাদ (২২) দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসী দম্পতির কন্যা এক তরুণীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। তরুণীর বাবা-মা দুজনেই বিদেশে থাকার সুযোগে তরুণীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার কিশোরী ছোটবোন (১৫)এর দিকেও হাত বাড়ান তিনি।

নানাভাবে যৌন আহ্বান করার পরও সাড়ালাভে ব্যর্থ হয়ে প্রতিশোধস্বরূপ তিনি ওই কিশোরীকে ধর্ষণের সিদ্ধান্ত নেন বলে পুলিশ সূত্র জানায়। পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক গত ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সন্ধ্যায় ধর্ষিতা কিশোরীকে ফোন করে ডেকে নেন সাজ্জাদ। তারপর সহযোগী আসামি রিপন (১৯) এর সহায়তায় মুখ চেপে ধরে তাকে অপেক্ষমাণ সিএনজি অটোরিকশায় উঠিয়ে রাঙ্গামাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে মর্মে হুমকি প্রদানপূর্বক সেখানে তাকে রাতভর ধর্ষণ করেন সাজ্জাদ। পরদিন ধর্ষিতা কিশোরী সুযোগ বুঝে তার মামাকে ফোন করে নিজ অবস্থান জানান। সেই অনুযায়ী ধর্ষিতার মামা এবং অন্যরা ঘটনাস্থলে হাজির হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে কৌশলে সেখান থেকে সটকে পড়েন সাজ্জাদ ও রিপন। পরবর্তীতে ২ অক্টোবর (শুক্রবার) দুপুরে ধর্ষিতার নানী বাদী হয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় সাজ্জাদ ও রিপনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের ৫ ঘন্টার মাথায় চট্টগ্রাম জেলা,পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম’র প্রত্যক্ষ পরিকল্পনা, তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় উপজেলার হালিমপুর এলাকা থেকে প্রধান আসামি সাজ্জাদকে গ্রেফতার করে ওসি সাইফুল ইসলাম ও এসআই রবিউলসহ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিকে চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. হেলালুদ্দিনের আদালতে হাজির করা হলে সেখানে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে নেন সাজ্জাদ। এ প্রসঙ্গে অভিযানের পরিকল্পনাকারী সার্কেল এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ধর্ষণের ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সাথেসাথে সেটা মামলা হিসেবে রেকর্ড করার পাশাপাশি আমরা আসামি গ্রেপ্তারে তৎপর হই।

সেই অনুযায়ী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অজ্ঞাত স্থানের উদ্দেশে পালিয়ে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে প্রধান আসামি সাজ্জাদকে আমরা গ্রেফতার করি। ইতোপূর্বেও যখনই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, আমরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পালিয়ে যাওয়ার আগেই আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। ধর্ষককে গ্রেফতারে পুলিশের এই তাৎক্ষনিক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

আরো সংবাদ