, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

প্রকাশ :  ২০২০-০৯-২৬ ১৩:৫৬:০৫

যেভাবে সৌদি প্রবাসীদের টিকিট দেবে বিমান

বিমান জানিয়েছে, তারিখ অনুসারে যাত্রীদের টিকিট রি-ইস্যু করছে তারা। করোনাভাইরাসের কারণে ১৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের আকাশপথের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে ১৬ মার্চ থেকে পরবর্তী সব শিডিউল ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। টিকিট বিতরণের ক্ষেত্রে বিমান ফ্লাইট বাতিলের তারিখ ধরে পর্যায়ক্রমে বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর টিকিট রি-ইস্যু করছে।

বর্তমানে রিয়াদ ও জেদ্দায় ফ্লাইটের অনুমতি পেয়েছে বিমান। অনুমতি না পাওয়ায় দাম্মাম ও মদিনার রুটের যাত্রীদের এখনই টিকিট রি-ইস্যু করেছে না এয়ারলাইন্সটি।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘আমরা রিয়াদ ও জেদ্দায় ফ্লাইটের অনুমতি পেয়েছি। তাই এ রুটের যাত্রীদের টিকিট রি-ইস্যু করা হচ্ছে। দাম্মাম ও মদিনার অনুমোদন পেলে সেই রুটগুলোতেও ফ্লাইট চলবে। নতুন  ফ্লাইট অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে অন্য যাত্রীদেরও বুকিংয়ের কাজ শুরু হবে।’

সৌদি আরবে  ১ অক্টোবর থেকে বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতির জন্য আবেদন করেছে বিমান। তবে এখনও অনুমতি পায়নি।

মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘আসন বরাদ্দ শুরু করার আগে ল্যান্ডিং পারমিশন আবশ্যক। কিন্তু ল্যান্ডিং পারমিশন পাওয়া যায়নি। ল্যান্ডিং পারমিশন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্লাইট ঘোষণা করা হবে।’

বাণিজ্যিক ফ্লাইটের অনুমতি না পেলেও বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটের অনুমতি পেয়েছে বিমান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পুরাতন টিকিটের যাত্রীদের চার্টার্ড ফ্লাইটে  যাওয়ার ব্যবস্থা করছে তারা। আজ ২৬ সেপ্টেম্বর  ঢাকা-জেদ্দা ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। এই দুই ফ্লাইটে ১৬ ও ১৭ মার্চের জেদ্দা ও রিয়াদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের টিকিট রি-ইস্যু করা হচ্ছে।  তাদের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে টিকিট  ইস্যুর কার্যক্রম শুরু করে বিমান।

২৯ সেপ্টেম্বর বিমান ঢাকা-রিয়াদ ও ৩০ সেপ্টেম্বর  ঢাকা-জেদ্দা যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এ ফ্লাইটগুলোতে যেতে পারবেন যাদের ১৮ থেকে ২০ মার্চের জেদ্দা এবং  ১৮ ও ১৯ মার্চের  রিয়াদের বিমানের ফ্লাইট ছিল।  রিটার্ন টিকেটধারী ২৬ সেপ্টেম্বরেরে মধ্যে টিকিট পাবেন। বুকিং করা হচ্ছে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে।

টিকিট পাওয়ার পর যাত্রীদের যা করতে হবে

সৌদিগামী যাত্রীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা নেগেটিভ রিপোর্টসহ বিমানবন্দরে আসতে হবে। যাত্রীদের কোভিড-১৯ নেগেটিভ টেস্ট ফলাফলের  ছয়টি কপি সঙ্গে রাখতে হবে। ৪৮ ঘণ্টার সময় গণনা শুরু হবে নমুনা সংগ্রহের সময় থেকে। যাত্রীদের সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা কোভিড-১৯ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণ এবং পদক্ষেপগুলো মেনে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে। বিমানে বোর্ডিং এর আগে যাত্রীদের অবশ্যই সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের disclaimer form পূরণ করে স্বাক্ষর করতে হবে। সৌদি বিমানবন্দরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে পূরণ ও স্বাক্ষর করা ফর্মটি জমা দিতে হবে। নির্দেশাবলি অমান্য করার ফলে সিভিল এভিয়েশন আইনের ১৬৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপিত হবে।

বিমানের ফ্লাইট ছাড়ার ছয় ঘণ্টা আগে যাত্রীদের স্মার্ট ফোনসহ বিমানবন্দরে উপস্থিত হতে হবে। যাত্রীদের অবশ্যই সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের disclaimer form (অনুচ্ছেদ-২) এ উল্লিখিত Tataman ও Tawakkalna Apps  ডাউনলোড করতে হবে।

সব যাত্রীকে সৌদি আরবে পৌঁছানোর আট ঘণ্টার মধ্যে Tataman app এর মাধ্যমে তাদের আবাসস্থলের অবস্থান জানাতে হবে।  সৌদিতে পৌঁছানোর পর সাত দিন নিজের বাসায় সেলফ কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সব যাত্রীকে কোভিড-১৯ এর উপসর্গগুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কোনও উপসর্গ দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ৯৩৭-এ কল করতে হবে। প্রয়োজনে  প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র যেতে হবে। Tataman app এ যাত্রীদের অবশ্যই প্রতিদিনের স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করতে হবে।

আরো সংবাদ