, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০

সোমবার

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০২০-০৯-১৯ ১৫:০৪:৫৯

চট্টগ্রামে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

কাইছার ইকবাল চৌধুরী :

হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের (বেফাক)-এর চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাযা অনুষ্ঠিত হয় আজ ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ।

জায়গা সংকুলনের কারণে মাদ্রাসা মাঠ ও আশেপাশে সড়ক ও ভবনে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানাগেছে।

মাদ্রাসার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গতকাল বিকেলে আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় আনা হয়। এরপর তাঁকে গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতা ছাড়াও ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন।

শাহ আহমদ শফীর জন্ম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাখিয়ারটিলা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম বরকম আলী, মা মোছাম্মাৎ মেহেরুন্নেছা বেগম। আহমদ শফীর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। তাঁর বড় ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ পাখিয়ারটিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক। ছোট ছেলে আনাস মাদানি হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক।

আহমদ শফীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা মাদ্রাসায়। এরপর পটিয়ার আল জামিয়াতুল আরাবিয়া মাদ্রাসায় (জিরি মাদ্রাসা) লেখাপড়া করেন। ১৯৪০ সালে তিনি হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ১৯৫০ সালে তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় যান, সেখানে চার বছর লেখাপড়া করেন।

১৯৮৬ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদে যোগ দেন আহমদ শফী। এরপর থেকে টানা ৩৪ বছর ধরে তিনি ওই পদে ছিলেন। ছাত্রদের বিক্ষোভের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে হাটহাজারী মাদ্রাসার শুরা কমিটির সভায় আহমদ শফী মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর ছেলে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালকের পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর পরপরই মাদ্রাসা থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহমদ শফীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জানাযার পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত সাংসদ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশে মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজি ও মাওলানা মোহাম্মদ জুনায়েদ।

হুজুরের জানাযায় ইমামতি করেন তার বড় ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউছুপ। জানাযা শেষে হুজুরের লাশ মাদ্রাসার মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

হুজুরের জানাযায় অংশগ্রহণকারীদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব এবং মাদ্রাসার বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করেন।

হুজুরের ইন্তেকালের সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পরলে শুক্রবার রাত থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা জানাযায় অংশগ্রহণের জন্য হাটহাজারীতে চলে আসে।

তাছাড়া ফজরের নামাযের পর থেকে ফটিকছড়ি-রাউজান-রাঙ্গুনিয়া উপজেলাসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার লোকজন জানাযায় অংশগ্রহণের জন্য আসতে শুরু করে।

মাদ্রাসার ভিতরের মাঠে জানাযায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় চট্টগ্রাম-নাজিরহাট ও হাটহাজারী-রাউজান মহাসড়ক, স্থানীয় ডাক বাংলা সড়ক, হাটহাজারী রেল স্টেশন সড়ক, ফটিকা কামাল পাড়া, কাচারি সড়ক, মাদ্রাসা সংলগ্ন হাতিনার দীঘি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে দাঁড়িয়ে জানাযায় অংশগ্রহণ করেন মুসল্লিরা ।

জানাযায় এলাকার জনপ্রতিনিধি, জেলা ও উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।

জানাযায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের সংখ্যা আনুমানিক ৪ লক্ষাধিক হবে বলে মন্তব্য প্রকাশ  করেছেন অনেকে।

আরো সংবাদ