, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০

বৃহস্পতিবার

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০১৮-০২-১৭ ১২:২৪:৫০

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বন্দুক হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা, চাপের মুখে এফবিআই

নিউজ ডেস্ক,বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম.

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পার্কল্যান্ডের স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনায় ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইএ-র ওপর। এরইমধ্যে সংস্থাটি স্বীকার করেছে যে, হামলাকারী নিকোলাস ক্রুজ সম্পর্কে তারা আগেই সতর্কতা পেয়েছিল। গত মাসে ১৯ বছর বয়সী হামলাকারীর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি এফবিআইকে সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। এমন পরিস্থিতিতে চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এ তদন্ত সংস্থা। এরইমধ্যে ফ্লোরিডা’র গভর্নর রিক স্কট দাবি তুলেছেন, এফবিআই পরিচালককে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে ব্যর্থতার ঘটনা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস।

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডে মারজোরি স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুলে ঢুকে ওই বন্দুক হামলা চালানো হয়। এতে নিহত হন ১৭ জন। আহত হন ১৪ জন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গোলাগুলির পর হামলাকারী হিসেবে আটক করা হয় স্কুলটির সাবেক ছাত্র নিকোলাস ক্রুজকে। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুল থেকে ১৯ বছরের ওই তরুণকে এক সময় বহিষ্কার করা হয়েছিল। গ্রেফতারের পর হামলার কথা স্বীকারও করেছে সে।

বন্দুক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ফ্লোরিডা’র গভর্নর রিক স্কট এক বিবৃতিতে বলেছেন, খুনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এফবিআই-এর ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। সংস্থাটির পরিচালককে পদত্যাগ করতে হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস বলেন, এফবিআই-এর ব্যর্থতা একটি দুঃখজনক পরিণতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। সম্ভাব্য সহিংসতার ইঙ্গিত সম্পর্কে বিচার বিভাগ ও এফবিআই কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে তা নিয়ে একটি পর্যালোচনারও ঘোষণা দেন জেফ সেশনস।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, গত ৫ জানুয়ারি হামলাকারী নিকোলাস ক্রুজের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি এফবিআইয়ের হটলাইনে ফোন করে কিছু তথ্য জানান। এসব তথ্যের মধ্যে নিকোলাসের কাছে বন্দুক থাকা, মানুষ হত্যার আকাঙ্ক্ষা, অদ্ভুত আচরণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরক্তিকর পোস্ট দেওয়ার মতো বিষয়গুলো ছিল। সে সময় নিকোলাস যেকোনও সময় স্কুলে হামলা চালাতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন ওই ব্যক্তি।

এফবিআই-র নিয়ম অনুযায়ী, ফোন কলের এই তথ্যগুলো সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে মিয়ামি ফিল্ড অফিসে পাঠানোর কথা ছিল। সংস্থাটি তার বিবৃতি জানিয়েছে, এই ঘটনায় এই প্রতিষ্ঠিত নিয়মের লঙ্ঘন হয়েছে।

এফবিআই’র পরিচালক ক্রিস্টোফার রে বলেন, ‘আমরা এখনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আসলে কী ঘটেছে তার শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আমি বদ্ধপরিকর। এছাড়া জনগণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে। আমরা ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় তাদের ওপর বাড়তি কষ্ট দেওয়ার জন্য আমরা গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছি।’

ওই হামলায় আহতদের দেখতে শুক্রবার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে হাসপাতালে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলার অঙ্গীকার করেন। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।

আরো সংবাদ