, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২০

প্রকাশ :  ২০২০-০৫-২০ ১২:২৫:০৭

চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন চট্টগ্রামের দুগ্ধ খামারীরা

কাইছার ইকবাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম :

করোনা ভাইরাস বা Covid-19 এর সংক্রমণের ফলে সারা বিশ্বের মানুষ আজ বিশাল হুমকির সম্মুখীন। এরিই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও সংক্রমণের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। এদিকে দেশের এ পরিস্থিতিতে দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্বের ন্যায় দুধ বিক্রি করতে না পারায় দিনের পর দিন ক্ষতির হিসেব গুণতে হচ্ছে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় আটশ পঞ্চাশটির ও বেশি খামারী মালিক এ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দৈনিক ইনফো বাংলাকে জানিয়েছেন তারা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে “কর্ণফুলী উপজেলা ডেইরি ফার্মাস এসোসিয়েশন” এর সভাপতি নাজিম উদ্দীন হায়দার বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এসোসিয়েশনে প্রায় আটশত পঞ্চাশ জন খামারী সদস্য রয়েছেন। তার মধ্যে বড় খামারীর সংখ্যা প্রায় চার শতাধিক। কর্ণফুলী উপজেলায় করোনার প্রাদূর্ভাবের পূর্বে দৈনিক প্রায় সত্তর হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হলেও বর্তমানে তা অনেকাংশে কমেগেছে। দুধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন মিষ্টির দোকান, চায়ের দোকানগুলো বন্ধ সেই সাথে হোটেল ও কুলিংকর্ণার গুলোতেও লোক সমাগম কমে যাওয়ায় বাজারে খুচরা দুধের চাহিদা কমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে খামারিরা দুধের ন্যায্যমূল্য না পেলেও খোলাবাজারে স্বল্প মূল্যে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, কর্ণফুলী উপজেলায় বড় চারশত দুগ্ধ খামারীরা বিশ হাজার টাকা করে হলে দৈনিক আশি লক্ষ টাকা এবং ছোট খামারীরা সাত হাজার টাকা করে হলে দৈনিক একত্রিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা লোকসানের ভার বহন করছে। সবমিলিয়ে প্রায় আটশত খামারীর দিনপ্রতি লোকসান হচ্ছে সর্বমোট ১কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। এমতাবস্থায় বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন তার আওতায় বড় খামারীদের পাশাপাশি ছোট খামারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে শিশু খাদ্য দুধ বাজারজাত স্বাভাবিক রাখতে ২৯শে এপ্রিল বুধবার সকালে এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দরা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সঙ্গে সাক্ষাত করে স্মারকলিপি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে “কর্ণফুলী উপজেলা ডেইরি ফার্মাস এসোসিয়েশন” যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাউছার শাহ বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, করোনার প্রাদূর্ভাবে বাজারের সব কিছু বন্ধ থাকায় দুধের চাহিদা অনেকটায় কমে গেছে। ছোট বড় খামারীরা দুধের পাচ্ছেন না ভালো দাম। করোনা ভাইরাস আক্তন্তের পূর্বে পাইকারী বাজারে দুধের দাম ৫৭ টাকা এবং খোলা বাজারে ৬০ টাকা করে পাওয়া যেত। কিন্তু, বর্তমানে খোলা বাজারে দুধের দাম মাত্র ৪০ টাকা ও পাইকারী বাজারে ৩০টাকা নামে মাত্র পাওয়া যাচ্ছে। যার ফলে খামারীদের প্রতিদিন লোকসান গুণতে হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

তিনি বলেন, সদ্য প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা ঘোষণা অত্যন্ত সময়োচিত এবং সুচিন্তিত। এ প্রণোদনা প্যাকেজে পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতের জন্য ৪ শতাংশ সুদে যে ঋণ সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা সারাদেশের ডেইরি খামারি ও উদ্যোক্তাদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের চাহিদা পূরণ করবে এবং করোনা পরবর্তী সময়ে নতুন উদ্যমে পুনরায় খামার শুরু করতে উৎসাহ যোগাবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ‘পোল্ট্রি বান্ধব’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

কর্ণফূলী উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা: মো: রাকিবুল ইসলাম বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সরকার ইতিমধ্যে খামারীদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। যার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত খামারীরা ক্রান্তিকালীন সময়ের পরে নতুন করে তাদের খামার ব্যবস্থাপনা করতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, সেই সাথে আমরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি এবং খামারীদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সড়কে দুধের পরিবহন চলাচলে যাতে খামারীদের কোন প্রকার বিড়ম্বনায় পড়তে না হয় সেদিকটা বিবেচনায় রেখে মাননীয় ইউনও মহোদয়ের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে এবিষয়ে অবহিত করেছি।

আরো সংবাদ