, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২০

প্রকাশ :  ২০২০-০৫-০৯ ১৫:৩৭:৪৬

একাধিক মামলার আসামী রকি বড়ুয়াকে গ্রেফতারের দাবিতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে লোহাগাড়াবাসী  

বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক:

সম্প্রতি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া বিবিবিলা এলাকার বৌদ্ধ মন্দির ভাংচুর মামলার প্রধান আসামী ধর্মব্যবসায়ী, সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টিকারী, চাঁদাবাজ ও বিতর্কিত রকি বড়ুয়ার গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার সাধারণ জনসাধারণ।

৯ মে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে শত শত মানুষ রকি বড়ুয়া ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে বলে জানাগেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, তারেক মনোয়ার এবং সাঈদীপুত্রের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সহায়তায় সাঈদীকে মুক্তির বিষয়ে গত কিছুদিন আগে গ্রামে লোহাগাড়ার নিজ বাসায় রাতভর বৈঠক করেন রকি বড়ুয়া। তারা রকির বাড়িতে রাতে খাওয়া-দাওয়া করেন এবং বৈঠক শেষে সকাল ৮টায় সড়ক পথে ঢাকা ফিরে যান। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সাথে তোলা বৈঠকের ছবি পোস্ট দেন রকি বড়ুয়া।

এরপর স্থানীয়দের মনে শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল। দুই লাখ টাকার কম কম হলে তারেক মনোয়ার যেখানে ওয়াজ করতে যান না, সেখানে লকডাউন সময়ে রকি বড়ুয়ার বাড়িতে তারেক মনোয়ার ও সাঈদীপুত্র মাসুদ সাঈদীর কাজ কী?

স্থানীয়দের এমন কৌতূহলের জবাবে রকি বড়ুয়া বলে বেড়ান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহযোগিতায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে জেল থেকে বের করার জন্য এই বৈঠক। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরো্ধ করতে নরেন্দ্র মোদির সাথে তার কথা হয়েছে বলেও স্থানীয়দের কাছে বলে বেড়ান রকি বড়ুয়া। শুধু তাই নয়, যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর মুক্তির জন্য যুদ্ধাপরাধীদের সুহৃদ, সতীর্থদের সাথে বৈঠকের ছবি ফলাও করে প্রচার করে সাধারণ মানুষের মাঝে নিজের ক্ষমতা ও শক্তির পরিধি বোঝানোর চেষ্টা করেন রকি বড়ুয়া।

আপনার ডর-ভয় নেই, স্থানীয়দের এমন জিজ্ঞাসায় রকি বড়ুয়া বিশাল ভাবসাব নিয়ে স্থানীয়দের বলেন, প্রশাসনের লোকজন ফোন করেছিল, তাদেরকে স্পষ্ট বলে দিয়েছি এটা আমার ইন্টারনাল ব্যাপার। আপনারা এ বিষয়ে মাথা ঘামাবেন না। এরপর আর কেউ মাথা ঘামায়নি। শুধু তাই নয়, তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাধর, তার কথায় সরকার ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা উঠবস করেন বলে প্রায় বলে বেড়ান রকি বড়ুয়া। কাউকে গোণার সময় তার নেই- এমন দম্ভোক্তির একটি ভিডিও স্থানীয়দের হাতে হাতে ঘুরেছিল কিছুদিন আগে।

স্থানীয়দের অভিমত, রকি বড়ুয়ার ক্ষমতা বটে..!! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর মুক্তির জন্য বৈঠক করে গর্বের সাথে প্রকাশ্যে যিনি বলে বেড়ান, কেউ তার কেশগুচ্ছ ছিঁড়তে পারে না মর্মে হুংকার ছাড়ার পরও বহাল তবিয়তে থাকেন রকি বড়ুয়া। উল্টো এমপি ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও তাকে সমীহ করেন বলে চাউর আছে, সেখানে রকি বড়ুয়ার কিছুই হবে না..???

এমন প্রতিষ্ঠিত ধারণার মাঝেই শনিবার (২ মে) চরম্বা ইউনিয়নের জনৈক ওসমানের যৌথ মালিকানাধীন পুকুর থেকে জোরপূর্বক মাছ তুলে নিতে গিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেন রকি বড়ুয়া। নির্বিচারে মাছ নিধনে পুকুরের আরেক অংশীদার মহিউদ্দিন বাধা দিলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সংশ্লিষ্টদের জিম্মি করেন রকি বড়ুয়া। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে এই জিম্মিদশার অবসান হলেও এরপর রকি বড়ুয়া নিজেই নিজের বৌদ্ধমন্দির ভাঙচুর করে নিজেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ সংক্রান্ত নাটকের দুর্বল স্ক্রিপটের ফোনালাপের অডিও ফাঁস হলে রকি বড়ুয়ার একের পর এক অপরাধের বিষয়গুলো নতুন করে সামনে উঠে আসে। সেই সাথে জোরালো হয় তার শাস্তির দাবি।

শনিবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ডাকে সাড়া দিয়ে স্থানীয় নয়াবাজার এলাকায় প্রায় হাজারো সাধারণ মানুষ ও এবং রকি বড়ুয়ার হাতে নির্যাতিত শত শত খেটে খাওয়া মানুষ তার শাস্তির দাবীতে মানববন্ধনে অংশ নেয়।

এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসহাব উদ্দীন, চরম্বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাষ্টার শফিকুর রহমার, ইউপি সদস্য ছৈয়দ হোসেন, ইউপি সদস্য মোঃ সোলাইমান, ইউপি সদস্য জয়নাল, সাবেক ইউপি সদস্য কালু, তাঁতী লীগের চরম্বা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ এনাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদের চরম্বা ইউনিয়নের সভাপতি নাজিম উদ্দীন নজির, জহির সওদাগর, চরম্বা ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ওসমান, চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আহমদ উল্লাহ, চরম্বা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগ এর সভাপতি মোঃ বেলাল, সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুছ এবং বাংলাদেশ কওমী ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন চরম্বা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ, যুবলীগের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাতী লীগ, কওমী ওলামা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাসুদ সাঈদী ও তারেক মনোয়ারের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছিল তা জানতে চাই জাতি…??

সেই সাথে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, ও অহেতুক মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সাধারণ জনগণকে নির্যাতন করা এবং সম্প্রতি দেশে ধর্মীয় সংঘাত ও অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিজ এলাকার বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের দায়ে রকি বড়ুয়াকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান সমাবেশে বক্তারা।

চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসহাব উদ্দীন বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, মানববন্ধনে রকি বড়ুয়াকে ভণ্ড, প্রতারক, ধর্মব্যবসায়ী, সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতা, চাঁদাবাজ উল্লেখ করে বিভিন্ন প্লেকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করা হয়। রকি বড়ুয়াকে দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে পরবর্তীতে এলাকায় আরো ক্ষোভের পরিস্থিতি বেগবান হবে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, চাঁদাবাজ ও ধর্মীয় সম্প্রতি উসকানী সৃষ্টিকারী রকি বড়ুয়াকে দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে এলাকায় তার লোকজনকে দিয়ে সে আবারও সহিংসতার সৃষ্টি করতে পারে মন্তব্য করেন তিনি। সেই সাথে রকি বড়ুয়াকে দ্রুত গ্রেফতার করতে স্থানীয় প্রশাসনের নিকট এলাকাবাসীর কঠোর হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।

আরো সংবাদ