, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২০

প্রকাশ :  ২০২০-০৫-০৯ ১১:০৮:৩০

প্রতারক রকি বড়ুয়া ভিক্ষু দাবী করার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বিবিবিলা গ্রামে সম্প্রতি বৌদ্ধ মন্দির ভাঙ্গার নীল নকশাকারী ও মামলার এক নং আসামী রকি বড়ুয়া নিজেকে বৌদ্ধ ভিক্ষু দাবী করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে যে কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এসম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন ও সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে ধর্ম মন্ত্রণালয় হয়ে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, রকি বড়ুয়া প্রকাশ আদমবেপারি রকি সম্প্রতি এলাকায় মাছ লুটের মামলার আসামী এবং দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় ভিক্ষু সেজে সাধারণ জনগণকে ধোঁকা দিয়ে আসছিল। রকি বড়ুয়া চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজিসহ তার লালিত সন্ত্রাসীবাহিনী দিয়ে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তা সরবরাহ করতো বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তাছাড়া ভূমিদস্যু ও একাধিক মামলার আসামী প্রতারক এই রকি বড়ুয়ার আদলে থেকে লোহাগাড়ার চরম্বা, তেলিবিলা এলাকার মৃত আব্দুস ছালাম এর পুত্র মো: আইয়ুব(৩৫) প্রকাশ আদমবেপারি আইয়ুব দেশের বিভিন্ন জেলার ট্রাভেল এজেন্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্ট দি বাপ্পি এসোসিয়েটস এর পরিচালক ও ভুক্তভোগী মো: ইসরাফিল আজাদ।

তিনি বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রামু, চকরিয়া, ঈদগাঁও, সন্দীপ, ফটিকছড়ি, ফেনী ও মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ট্রাভেল এজেন্ট ব্যবসায়ির সাথে প্রতারণা করে এই আইয়ুব(রকি বড়ুয়ার অন্যতম সহযোগী)। তার বিরুদ্ধেও একাধিক চেক জালিয়াতিসহ প্রতারণা মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, তারেক মনোয়ার এবং সাঈদীপুত্রের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সহায়তায় সাঈদীকে মুক্তির বিষয়ে গত কিছুদিন আগে গ্রামে লোহাগাড়ার নিজ বাসায় রাতভর বৈঠক করেন রকি বড়ুয়া। তারা রকির বাড়িতে রাতে খাওয়া-দাওয়া করেন এবং বৈঠক শেষে সকাল ৮টায় সড়ক পথে ঢাকা ফিরে যান। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সাথে তোলা বৈঠকের ছবি পোস্ট দেন রকি বড়ুয়া।

এরপর স্থানীয়দের মনে শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল। দুই লাখ টাকার কম কম হলে তারেক মনোয়ার যেখানে ওয়াজ করতে যান না, সেখানে লকডাউন সময়ে রকি বড়ুয়ার বাড়িতে তারেক মনোয়ার ও সাঈদীপুত্র মাসুদ সাঈদীর কাজ কী?

স্থানীয়দের এমন কৌতূহলের জবাবে রকি বড়ুয়া বলে বেড়ান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহযোগিতায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে জেল থেকে বের করার জন্য এই বৈঠক। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরো্ধ করতে নরেন্দ্র মোদির সাথে তার কথা হয়েছে বলেও স্থানীয়দের কাছে বলে বেড়ান রকি বড়ুয়া। শুধু তাই নয়, যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর মুক্তির জন্য যুদ্ধাপরাধীদের সুহৃদ, সতীর্থদের সাথে বৈঠকের ছবি ফলাও করে প্রচার করে সাধারণ মানুষের মাঝে নিজের ক্ষমতা ও শক্তির পরিধি বোঝানোর চেষ্টা করেন রকি বড়ুয়া।

আপনার ডর-ভয় নেই, স্থানীয়দের এমন জিজ্ঞাসায় রকি বড়ুয়া বিশাল ভাবসাব নিয়ে স্থানীয়দের বলেন, প্রশাসনের লোকজন ফোন করেছিল, তাদেরকে স্পষ্ট বলে দিয়েছি এটা আমার ইন্টারনাল ব্যাপার। আপনারা এ বিষয়ে মাথা ঘামাবেন না। এরপর আর কেউ মাথা ঘামায়নি। শুধু তাই নয়, তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাধর, তার কথায় সরকার ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা উঠবস করেন বলে প্রায় বলে বেড়ান রকি বড়ুয়া। কাউকে গোণার সময় তার নেই- এমন দম্ভোক্তির একটি ভিডিও স্থানীয়দের হাতে হাতে ঘুরেছিল কিছুদিন আগে।

স্থানীয়দের অভিমত, রকি বড়ুয়ার ক্ষমতা বটে..!! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর মুক্তির জন্য বৈঠক করে গর্বের সাথে প্রকাশ্যে যিনি বলে বেড়ান, কেউ তার কেশগুচ্ছ ছিঁড়তে পারে না মর্মে হুংকার ছাড়ার পরও বহাল তবিয়তে থাকেন রকি বড়ুয়া। উল্টো এমপি ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও তাকে সমীহ করেন বলে চাউর আছে, সেখানে রকি বড়ুয়ার কিছুই হবে না..???

এমন প্রতিষ্ঠিত ধারণার মাঝেই শনিবার (২ মে) চরম্বা ইউনিয়নের জনৈক ওসমানের যৌথ মালিকানাধীন পুকুর থেকে জোরপূর্বক মাছ তুলে নিতে গিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেন রকি বড়ুয়া। নির্বিচারে মাছ নিধনে পুকুরের আরেক অংশীদার মহিউদ্দিন বাধা দিলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সংশ্লিষ্টদের জিম্মি করেন রকি বড়ুয়া। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে এই জিম্মিদশার অবসান হলেও এরপর রকি বড়ুয়া নিজেই নিজের বৌদ্ধমন্দির ভাঙচুর করে নিজেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ সংক্রান্ত নাটকের দুর্বল স্ক্রিপটের ফোনালাপের অডিও ফাঁস হলে রকি বড়ুয়ার একের পর এক অপরাধের বিষয়গুলো নতুন করে সামনে উঠে আসে। সেই সাথে জোরালো হয় তার শাস্তির দাবি।

সিগন্যাল পেলেই রকি বড়ুয়াকে ধরবো : ওসি লোহাগাড়া

বৌদ্ধ মন্দিরে ঘটনার পর ধিকৃত, নিন্দিত হওয়ার পাশাপাশি গত ৬দিন ধরে রকি বড়ুয়ার নানা অপকর্মের বিচারের দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী। একইসাথে সাঈদীপুত্রের সঙ্গে বৈঠক করে আস্ফালন করা রকির অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগীরা ফাঁস করছেন তার জারিজুরি।

এ প্রসঙ্গে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, মাছ-নিধনের প্রতিবাদে উদ্ভুত পরিস্থিতি, মারধরের ঘটনা এবং বৌদ্ধমন্দির ভাঙচুরের বিষয়ে থানায় মামলা, পাল্টা মামলা হয়েছে। আমরা দুটি মামলাই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। মামলার সুষ্ঠু তদন্তে আপনারা গণমাধ্যমকর্মীদেরও সহযোগিতা চাই। যেই অপরাধী হোন তাকে আমরা আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর।

সাঈদীপুত্রের সাথে বৈঠকের বিষয়টি জানেন কিনা, জানলে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে- জবাবে ওসি জাকির হোসেন বলেন, হ্যাঁ, বিষয়টি আমরা জানি। তবে ফেসবুকে দিয়ে প্রচার করার বিষয়টি আমার জানা নেই। ঊর্ধ্বতন মহলে সাঈদীপুত্রের সাথে বৈঠকের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। সিগন্যাল পেলেই তাকে ধরবো আমরা।

রকি বড়ুয়া মস্তবড় প্রতারক : ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

লোহাগড়ার সন্তান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সাথে প্রসঙ্গ তুলতেই রকি বড়ুয়ার কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ঝারেন তিনি।

বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, রকি বড়ুয়া একজন মস্তবড় প্রতারক। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল একদিন আমাকে ফোন করে জানান, গুলশানে এক ব্যক্তিকে মনোনয়ন নিয়ে দেওয়ার কথা বলে তার বাড়ি দখল করে নিয়েছে রকি বড়ুয়া।

বুলবুল ভাইয়ের কাছে আমার নামও বিক্রি করে সে। আমি বলেছি, তাকে ধরে যেন পুলিশে তুলে দেওয়া হয়। পরে মামলা-মোকর্দমা করে অনেক হয়রানির পর বোধহয় বাড়িটা দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এরপর নিজেকে ভারত সরকারের ঘনিষ্ঠ দাবি করে হাজীগঞ্জের এক এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মনোনয়ন নিয়ে দেওয়ার প্রলোভনে ২০ লাখ টাকা দাবি করে সে।- বলেন ব্যারিস্টার বিল্পব বড়ুয়া।

তিনি বলেন, ছোটকালে অভাবের তাড়নায় বৌদ্ধ ভিক্ষু সেজে সে ভারতের একটা আশ্রমে আশ্রয় নেয়। সেখানে একজন বাঙালি মুক্তিযোদ্ধা ধর্মীয় গুরুর কাছে থাকতো, যিনি রাজ্যসভারও সদস্য, যাকে প্রধানমন্ত্রীও চিনতেন। বিজেপি যেহেতু একটু রিলিজিয়াস দল, সেই দলের নেতারা ওই আশ্রমে যাওয়া-আসা করতেন। সেই যাওয়া-আসার মাঝে রকি বড়ুয়া হয়তো কিছু ছবিটবি তোলে। আর সেগুলোই সে হাতিয়ার করে চলছে, নিজেকে ‘র’-এর এজেন্ট দাবি করে।

বিপ্লব বড়ুয়া আরো বলেন, সে ভারত গেলে লালকাপড় পরে। বাংলাদেশে এলে পরে প্যান্টশার্ট। ভারতীয় হাই কমিশনে ঢুকে লালকাপড় পড়ে। বের হয়েই সেই কাপড় সে ফেলে দেয়। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে।

রকি বড়ুয়া মূলত ফটোব্যবসায়ী : আমিনুল ইসলাম

রকি বড়ুয়ার ব্যাপারে সাতকানিয়ার সন্তান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, কী আর বলবো তাকে নিয়ে। আমি যতদূর জানি, সে আপাদমস্তক একজন প্রতারক। দীর্ঘদিন ইন্ডিয়ায় থেকে প্রতারণার বিদ্যাটা চমৎকারভাবে রপ্ত করেছে সে। মানুষকে মনোনয়ন নিয়ে দেয়, এই করে দেয়, সেই করে দেয়-কত যে কাহিনী!

তিনি আরো বলেন, সে মূলত একজন ফটোব্যবসায়ী। তার যে গুরু ছিল সেই গুরুর কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেতেন। সেই সুবাদে মোদির সাথে সে কয়েকটা ছবি তোলে। এখানে এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কীভাবে যেন ছবি একটা তোলে ফেলে। আর এই ছবিগুলোই এখন তার ব্যবসার বড় পুঁজি।

গুলশানে সন্দ্বীপের এক লোকের বাড়ি দখল করতে চেয়েছিল : মঞ্জরুল আহসান বুলবুল

রকি বড়ুয়ার প্রতারণা, বাড়িদখলের ইস্যুতে কথা হয় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঞ্জরুল আহসান বুলবুলের সাথে।

তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান কানেকশন বলে-টলে ওই লোক (রকি) সন্দ্বীপের কাতার প্রবাসী এক লোকের গুলশানের বাড়িতে থাকতে গিয়ে একপর্যায়ে সেই বাড়িই দখল করে নিতে চায়। আমি কাতার বেড়াতে গেলে ওই লোকের সাথে পরিচয় আমার।

বাড়ি দখলের চেষ্টা করলে ভদ্রলোক আমাকে বিষয়টি জানান। আমি কয়েকজনকে এব্যাপারে ফোনও দিয়েছিলাম। ভদ্রলোকেরও জানাশোনা ছিল অনেকের সাথে। ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার নামও বিক্রি করেছে সে। পরে বিপ্লবকে ফোন দিয়ে জানতে পারি আসল ঘটনা।

বুলবুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত সামরিক সচিব জয়নাল আবেদীনের সহযোগিতায় পরবর্তীতে বাড়িটি উদ্ধার হয় বলে জেনেছি। যতটুকু জানি, ওই লোক জয়নাল আবেদীন সাহেবকে বেশ ভয় পেতো। তিনি বেঁচে থাকতে এলাকায়ও যেতে পারতেন না রকি বড়ুয়া।

রকি বড়ুয়াকে কাছ থেকে দেখা এমন এক ব্যক্তি দুঃখপ্রকাশ করে বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রঙ কাপড় প্রতিটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর জীবনে একবার পরতে হয়, অর্থাৎ শ্রমন হতে হয়। কিন্তু যিনি একবার ভিক্ষু হয়ে গায়ে রঙ কাপড় জড়াবেন, তিনি আর সেই কাপড় খুলতে পারেন না। জাগতিক বিলাসব্যসন, ভোগবিলাসের উর্দ্ধে চলে যান তিনি।

তিনি বলেন, রকি বড়ুয়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কলংক। তিনি রঙ কাপড়টি ক্ষণে ক্ষণে খোলেন আর পরেন। বাংলাদেশে থাকলে তিনি প্যান্টশার্ট পরেন, আর ইন্ডিয়া গেলে রঙ কাপড় ধারণ করেন। দিল্লিতে তিনি একটি আশ্রমের বড় ভান্তের তত্ত্বাবধানে থাকেন। ওই ভান্তে প্রয়াত হবার পর সেই মন্দিরটি দখল করেন তিনি। বাংলাদেশ থেকে লোকজন নিয়ে গিয়ে তাদেরকে রঙ কাপড় পরিয়ে জাপান, চীন, আমেরিকাসহ বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্রে পাঠাতে থাকেন। ভান্তে সাজিয়ে আদামপাচারের বিষয়টি ধরা পড়লে ভারত সরকার তাকে কালো তালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেয়। বাতিল করে ভিক্ষু পরিচয়ে করা পাসপোর্টটি।

অভিযোগ রয়েছে, সেই থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করে বিলাসী জীবন যাপন করছেন রকি বড়ুয়া। চট্টগ্রাম শহরে তার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ঢাকায় অ্যাপার্টমেন্টে। বিয়ে করেছেন অনেক আগে। তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে রেখেছেন কক্সবাজারের বিলাসী ফ্ল্যাটে। ভারত সরকারের সাথে কথিত সম্পর্কের গালগল্প ছড়িয়ে প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে সেই সম্পর্ককে এখন তিনি পুঁজি করছেন। সেই পুঁজিতে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় গড়ে তুলেছেন বিশাল বাহিনী, ত্রাসের রাজত্ব, একচ্ছত্র আধিপত্য। যত্রতত্র মৎস্যনিধন, বালুর মহাল ও জমি দখলসহ এমন কোনো কাজ নেই, রকি বড়ুয়া করছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী জানান, রকি বড়ুয়া নিজেকে অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে অহেতুক বড় বড় ব্যবসায়ীদের মিথ্যা মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। তার কোন নির্দিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকলেও ঢাকা গুলশানে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামের ওয়াসায় ফ্ল্যাট ও কক্সবাজারে আরো একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে নিজের স্ত্রীকে রাখা এসবের খরচের আয়ের উৎস কোথায় তা জানতে দূর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ করেন এলাকার সচেতন মহল।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বিবিবিলা শান্তি বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর মামলার প্রধান আসামি রকি বড়ুয়া বাংলাদেশে সিভিল হয়ে চলাফেরা করলেও ভারত ও ভারতীয় দূতাবাসে ভিক্ষুবেশে থাকে।

ভারত ও ভারতীয় দূতাবাসে যখন থাকে তখন তার নাম হয় শীল রক্ষিত ভিক্ষু।

শীলহীন এই শীল রক্ষিত ভিক্ষু রকি বড়ুয়ার প্রতারণা হতে বৌদ্ধ সমাজকে রক্ষা করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও তার বিচারের জোর দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। সেই সাথে প্রতারক ও একাধিক মামলার আসামী এবং সম্প্রতি বিবিবিলা শান্তি বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর মামলার প্রধান আসামি ও ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দেওয়া রকি বড়ুয়াকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া অঞ্চলের মানুষ। অনেকে ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি তাকে গ্রেপ্তারে প্রশাসনের নির্লিপ্ততার প্রশ্ন তোলেন।

প্রশাসনের এই নীরবতাই ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। তার অত্যাচার, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এলাকাবাসী।

 

 

আরো সংবাদ