, রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

প্রকাশ :  ২০২০-০২-২৯ ১০:৫৭:৪০

ভারতীয় ৩ হাজার হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হওয়ার ঘোষণা দিলেন

স্টাফ রিপোর্টার :

ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরের কাছের একটি গ্রামের ৩ হাজারেরও বেশি দলিত জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ তুলে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হওয়ার সি’দ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।অঞ্চলটি হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে সা’মাজিক বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওই দলিত বাসিন্দাদের। সম্প্রতি এক ঘোষণায় তারা জানিয়েছেন, আগামী ৫ জানুয়ারি বর্ণ বৈষম্যের প্রতি’বাদে তারা ইসলাম ধর্মগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ভারতীয় সং’বাদমাধ্যম জানায়, ঘ’টনার সূত্রপাত একটি পাঁচিল ভে’ঙে ১৮ জন দলিতের মৃ’ত্যুর ঘ’টনাকে কেন্দ্র করে। চেন্না’ই থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে নাদুর গ্রামের কাছে গত ২ ডিসেম্বর একটি দেয়াল প্ৰবল বৃ’ষ্টির কারণে ভে’ঙে পড়ে। পাঁচিলের পাশেই ছিল দ’লিতদের বাস।

পাঁচিল ভাঙার ফলে ১০ জন মহিলা ও দুজন শি’শু সহ মোট ১৮ জন দ’লিত অ’ধিবাসীদের ম’র্মান্তিক মৃ’ত্যু ঘটে। ঘটনা’র পরে পু’লিশ ওই ভে’ঙে পড়া পাঁচিলের বাড়ির মালিক শি’বসুম’ব্রমানিয়মকে গ্রে’ফতার করলেও পরে জা’মিনে মুক্তি পেয়ে যায় সে।

উ’চ্চব’র্ণের হিন্দু’দের থেকে দলি’তদের পৃ’থকভাবে বাস করতে বাধ্য করার জন্য ওই পাঁ’চিল তোলা হয়েছিলো বলে অ’ভিযোগ দলিত বা’সিন্দাদের। ১৫ ফুট লম্বা পাঁ’চিলটি কোনও রকম পি’লার ছাড়াই নির্মিত হয়েছিল।

শি’বসুমব্রমানিয়মের বি’রুদ্ধে ত’ফসিলি জাতি ও উপ’জাতির নি’র্যাতন প্রতি’রোধ আ’ইনের ধারা অ’নুযায়ী মা’মলা রুজু করার কথা বললেও পু’লিশ তা এড়িয়ে যায় বলে অ’ভিযোগ।

পু’লিশি নি’ষ্ক্রিয়তা ও শু’ধুমাত্র দলি’ত হওয়ার কা’রণে বৈষ’ম্য মূলক আচ’রণের জন্য ওই দলিত সম্প্রদা’য়ের মা’নুষেরা ঘো’ষণা করেছে যে আগামী ৫ জানুয়ারী ১৭ জন মৃ’তের প’রিবারের সদস্যসহ মোট প্রায় ৩০০০ দ’লিত ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চলেছেন।

দলিত’দের সং’গঠনের সাধারণ সম্পা’দক এম ইলাভেনিল বলেন, “যে ব্যক্তি এই ম’র্মান্তিক ঘ’টনার জন্য দায়ী তাকে ২০ দিনের মধ্যে জা’মিনে মুক্তি দিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু সংগঠনের সভাপতি না’গাই তিরু’ভল্লুয়ান গণ’তান্ত্রিক উপা’য়ে ন্যা’য় বি’চার চাইতে গেলে তাকে আ’টক করা হয়।”

বর্ণহি’ন্দুদের দ্বারা নি’পীড়নে অতি’ষ্ঠ স্থানীয় দলি’তরা। ই’লাভেনিল বলেন, নি’পীড়ন এমন পর্যা’য়ে পৌঁছে’ছে যে, আমাদেরকে কূ’প থেকে পানি খেতে দেয় না। ম’ন্দিরের ধারেকাছে যেতে দেয় না। রাস্তায় ধরে মা’রধর করে আবার মা’মলাও দেয়। আমা’দেরকে বলা হয়েছে রা’স্তায় যেন মোবাইল ফো’নে কথা না বলি। কী ধরনের অমা’নবিক আচরণ এগুলো?”
তা’লিম পুলি’গাল কাত’চির এই সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘আমরা দ’শকের পর দশক ধরে বৈষম্যের শি’কার। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, অনেক হ’য়েছে আর নয়। আমরা এবার ধর্ম পরিবর্তন করব। প্রাচীর ধ’স সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা এখন বলতে পারব, আমরা কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘একটি ধর্ম যদি আমাদের জীবনের মূল্যই না দিতে পারল, তাহলে আমরা কেন নিজেদের শুধু শুধু বি’সর্জন দিয়ে যাব।

আরো সংবাদ