, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

সোমবার

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০১৮-০২-০৭ ১৬:০৮:৪৮

রায় বিপক্ষে গেলে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন : ওবায়দুল কাদের

নিউজ ডেস্ক,বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম.

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায় প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রায় বিপক্ষে গেলে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া শেষ পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। তিনি দয়াবান মানুষ, ক্ষমা করলেও করতে পারেন।

বুধবার খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলেনের পর রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সেতুমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রায়ের আগের দিন বিএনপি চেয়ারপারসনের সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, রায়ের আগে মায়াকান্না করে আদালতকে বিব্রত, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা নজিরবিহীন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেনি। খালেদা জিয়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাচ্ছেন। খালেদা জিয়া মায়াকান্না করে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন।

তিনি বলেন, রায় নেতিবাচক হলে বিএনপি মেনে নেবে না। প্রধানমন্ত্রী রায় লিখে দিয়েছেন- এ ধরনের কথা কি আদালত অবমাননার শামিল নয়?

খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি অপরাজনীতি করছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, তারা অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। পুলিশের কাছে খবর আছে বিএনপি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক জমা করছে। রায়কে কেন্দ্র করে তারা জনগণকে জিম্মি করতে পারে।

অপতৎপরতা চালানো হলে যথাযথ ব্যবস্থা

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনেকগুলো ইনফরমেশন আছে, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে তথ্য আসছে- তারা নাশকতা করার সরঞ্জাম জড়ো করছে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হতে পারে। এ তথ্যের ভিত্তিতে জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য পুলিশকে সতর্ক হতে হয়েছে। আর নিরাপত্তা বাহিনীকে সারা দেশে কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ মামলার রায় নিয়ে অপতৎপরতা চালানো হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতা ডা. দীপুমনি, মুকুল বোস, ড. হাছান মাহমুদ, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, অসীম কুমার উকিল, এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ফরিদুন্নাহার লাইলী, ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, এস এম কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তিনি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা-সংক্রান্ত লিখিত তথ্য তুলে ধরেন। পরে তিনি বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। খালেদার রায়ের সঙ্গে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ রায়কে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট তল্লাশি চালাচ্ছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্কাবস্থায় রয়েছে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-বিজিবি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি বিচার ব্যবস্থাকে আজ ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। আন্দোলন সংগ্রাম ও সন্ত্রাসের হুমকি দিয়ে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে বিচার বিভাগকে জিম্মি করতে চাচ্ছে। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও নেই। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে আদালতের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এটা খুব খারাপ নজির। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নজির নেই।

উনি এত ভীত কেন

‘খালেদা জিয়া বলেছেন, প্রশাসনে তার লোক আছে, পুলিশ, বিজিপি ও সেনাবাহিনীতেও তার লোক আছে।’ এ কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ কথা বলে উনি তার নেতাকর্মীদের অভয় দিচ্ছেন। প্রশাসন ও সেনাবাহিনীতে লোক থাকলে উনি এত ভীত কেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য কোন ধরনের ভবিষ্যৎ রেখে যাচ্ছি। কোন ধরনের নোংরা রাজনীতির প্র্যাকটিস করছে বিএনপি। পৃথিবীতে আগে কখনো এমন হয়নি। এ ধরনের সংস্কৃতি অনুসরণ করা হলে ফলাফল ভালো হবে না। আওয়ামী লীগ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাসের মাধ্যমে দুর্নীতি ঢাকা যাবে না। আওয়ামী লীগ কোনো সন্ত্রাস ও সহিংসতা সহ্য করবে না।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পদক্ষেপ নিয়েছে। রায়ের দিন নাশকতা ঠেকাতে আওয়ামী লীগও মাঠে থাকবে।

তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে আমাদের সমস্যা কী?

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা তো পাল্টাপাল্টি কোনো অবস্থানে যাইনি। এটা তো দুর্নীতির বিষয়। এ নিয়ে রাজপথে কী করার আছে? তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে আমাদের সমস্যা কী?’ বিএনপি চেয়ারপারসনের সিলেট সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেগম জিয়া মাজার জিয়ারতের নামে গিয়েছিলেন শোডাউন করতে। মনে করেছিলেন, জনগণের ঢল নামবে, কিন্তু নামেনি। তাই তিনি হতাশ হয়ে রাতেই ফিরে এসেছেন।

আরো সংবাদ