, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১

বুধবার

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০১৮-০৭-০৯ ১৩:১৩:৪২

ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেফতার নয় : নির্বাচন কমিশন

বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক: রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ সোমবার। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে কাল মঙ্গলবার প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। এরপরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। ওইদিনই আচরণ বিধিমালা প্রতিপালনে রাজশাহী ও বরিশাল সিটিতে ১০ জন করে ও সিলেট সিটিতে ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামছেন। তারা স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিধি লঙ্ঘনকারীদের সাজা দেবেন।

তবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা সংশোধন না হওয়ায় এ প্রচারে নামতে পারছেন না সংসদ সদস্যরা। এদিকে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ)’ নিশ্চিত করতে ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেফতার না করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ নির্বাচনে প্রার্থীর এজেন্টদের গ্রেফতার বা হয়রানি বন্ধে তাদের নামের তালিকা আগেই কমিশনে জমা দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া তিন সিটি নির্বাচনের কয়েকটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত রয়েছে কমিশনের।

আগামী ৩০ জুলাই তিন সিটিতে একইদিন ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ তিন সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের গ্রেফতার, আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভয় দেখানো ও ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগ করেছিল বিএনপি। এমনকি নির্বাচনে কারচুপিরও অভিযোগ তোলে দলটি।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়। ওইসব ঘটনায় কমিশন কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। খুলনা সিটি কর্র্পোরেশন নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে কমিশন। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে কমিশন।

এমন পরিস্থিতির যাতে সামনের তিন সিটি নির্বাচনে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য আগেভাগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হয়রানি না করার নির্দেশনা দিল ইসি। আগামী ১২ জুলাই অনুষ্ঠেয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকেও বিষয়টি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেয়া হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাহাদাত হোসেন চৌধুরী রোববার নিজ কার্যালয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমকে বলেন, তিন সিটি নির্বাচনী এলাকায় ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে যেন গ্রেফতার করা না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে ওয়ারেন্ট থাকলে সেটা ভিন্ন বিষয়। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকেও এ বিষয়টি বলা হবে।

বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের এজেন্টদের হয়রানি ও গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রার্থীর এজেন্টদের হয়রানি বন্ধ করতে তাদের নামের তালিকা আগেই নির্বাচন কমিশনে পাঠালে, আমরা দেখতে পারি ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে কিনা।

তিনি বলেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনের ত্রুটি-বিচ্যুতি যাতে সামনের তিন সিটি নির্বাচনে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিন সিটি নির্বাচনে কিছু কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। তবে কতটি কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে তা নির্ধারণ করা হয়নি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সক্ষমতা অনুযায়ী ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইভিএম সম্পর্কে মানুষের ধারণা দিতে একটি মেলার আয়োজন করা হবে।

আর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও বৈঠক করা হবে। ইসির কর্মকর্তারা জানান, খুলনা সিটি নির্বাচনে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের গ্রেফতারের অভিযোগ করেন দলটির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। পরে একটি রিট আবেদন দায়ের হলে উচ্চ আদালত বিএনপির নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার ও হয়রানি না করার নির্দেশ দেন। পরে ওই আদেশের কপি নির্বাচন কমিশন খুলনার পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছিল।

এরপর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগেও ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেফতার বা হয়রানি না করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেয় কমিশন। এবার তিন সিটিতে একই নির্দেশনা দেয়া হল।

প্রচারে অংশ নিতে পারছেন না এমপিরা : জানা গেছে, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচনের প্রচার মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে। এতে সংসদ সদস্যরা অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ‘সিটি কর্পোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা’ সংশোধন না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জানান, আচরণ বিধিমালা সংশোধনীর প্রস্তাবে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে ফেরত পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়। ওই পর্যবেক্ষণে নির্বাচনে সব এমপি ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের প্রচারের সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়। ওই পদ লাভজনক নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

আরো সংবাদ