, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২০

শুক্রবার

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০১৭-১২-১২ ১৪:০৩:৩৭

১৯ ডিসেম্বর ঢাকা আসছে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

নিউজ ডেস্ক, বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম.

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’র মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা আগামী ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসছেন। ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক মঙ্গলবার প্যারিসে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

গত অগাস্টের শেষ ভাগ থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়া শুরুর পর আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে গত মাসে শরণার্থীদের ফেরত নিতে সম্মত হয় মিয়ানমার।

দুই দেশের স্বাক্ষরিত সম্মতিপত্রে বলা হয়, একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং একটি চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্র তৈরি করবে।

শহীদুল হক বলেন, “মিয়ানমারের ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে ১৯ তারিখে আসবে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ইমপ্লিমেনটেশন ও ইনটিগ্রিটি ঠিক করতে।”

গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা। সম্মতিপত্র অনুযায়ী, প্রথম দফায় শুধু এবারে আসা শরণার্থীদের ফেরত নেবে মিয়ানমার।

এবার গণহত্যা ও ধর্ষণের মতো দমন-পীড়নের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমারে যা ঘটছে, তাকে জাতিসংঘ চিহ্নিত করেছে জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে। বাংলাদেশ এবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করে নতুন চুক্তির কথা বললেও শেষ পর্যন্ত ১৯৯২ সালের চুক্তির অনুসরণেই সম্মতিপত্র হয়েছে।

আগের শরণার্থীদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের বারবার আহ্বানে ১৯৯২ সালে মিয়ানমারের সামরিক সরকার শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে একটি প্রত্যাবাসন চুক্তি করে।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের নাগরিক হিসেবে মানতে নারাজ মিয়ানমার তখন তাদের ‘মিয়ানমার সমাজের সদস্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

ওই চুক্তির আওতায় মিয়ানমার সে সময় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জন রোহিঙ্গাকে দেশে ফিরিয়ে নেয়। চুক্তি নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ায় আরও ২৪১৫ জন শরণার্থীকে সে সময় মিয়ানমার থেকে আসা বলে চিহ্নিত করা হলেও মিয়ানমার তাদের আর ফিরিয়ে নেয়নি। এবারও শরণার্থী ফেরত পাঠানোর সফলতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বাংলাদেশের নানা মহলে।

আরো সংবাদ