, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১

সোমবার

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০১৮-০৪-২৭ ১৬:৪২:৪২

চট্টগ্রামে সিসিএলের ডিস লাইন দখলে মরিয়া সিএমসিএল: নিহত-১

নিউজ ডেস্ক, বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম.

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া ডিসি রোড এলাকায় অস্ত্রের মুখে ক্যাবল টিভির (ডিস সংযোগ) প্রায় পাঁচশতাধিক লাইন দখলে নেয়ার সময় বাধা দিলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী ফরিদুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৩ জন।ক্যাবল টিভির সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সিসিএলের লাইনগুলো আরেক অপারেটর সিএমসিলের পক্ষে দখল করতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. ফরিদুল ইসলাম (৩৫) ডিসি রোডের চান মিয়া মুন্সি লাইন এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীর গ্রুপ সমথিত যুবলীগ কর্মী এবং স্থানীয় দুবাইওয়ালা শফি’র গ্রুপের কর্মী বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘ডিসি রোড থেকে আসা গুলিবিদ্ধ একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। তার বুকে গুলি লেগেছে।’

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা বলেন, ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান চিটাগাং কমিউনিকেশনস্ লিমিটেড (সিসিএল) এবং সিএমসিএলের ডিশের লাইন দখল-বেদখলের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ একজন মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৪টার দিকে ডিস সংযোগ দখলকালে ফরিদ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় সন্ত্রাসী রিয়াজ চৌধুরী রাসেল যুবলীগ কর্মী ফরিদকে গুলি করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সাবেক মন্ত্রী মান্নানের শ্যালক মুসার সহযোগী হিসেবে স্থানীয় ফয়সাল-রাসেল গ্রুপ ডিসের লাইন দখল করতে গিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়। সিএমসিলের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ডিসের লাইনগুলো দখলে নিতে সিএমসিএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মুসা নাসেরের প্রতিষ্ঠানকে দখল করে দেয়ার জন্য এই হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে সকাল ১১টা থেকে শতাধিক সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে এলাকার ডিস লাইন নিজেদের দখলে নেয়। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ।

অভিযোগ উঠেছে, নগর আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে স্থানীয় অস্ত্রধারী রিয়াজ চৌধুরী রাসেল, মুরাদ, সারোয়ার, মজনু ও মাসুদের নেতৃত্বে অর্ধশত সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আজ শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে কেসিটিএন ক্যাবল টিভি নেটওর্য়াক এর লাইন দখল করে নেয়। সন্ত্রাসীরা ডিসি রোড় কবরস্থান থেকে মিয়ার বাপের মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ৫শ লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়।

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ফরিদুল ইসলামসহ কয়েকজন এ কাজে বাধা দিতে গেলে রাসেল ফরিদকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আহত ফরিদুলকে চমেক হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

কেসিটিএন ক্যাবল টিভি নেটওর্য়াক এর পার্টনার ও সিসিএল’এর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে চকবাজার থানার ওসিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বার বার অভিযোগ দিয়ে পুলিশের কোন সহযোগিতা পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে । সিসিএলের এক পরিচালক বলেন, আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে ১৫ বছর ধরে বৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছি।অথচ গত কয়েক মাস ধরে এলাকার সন্ত্রাসী গ্রুপ আমাদের কর্মচারীদের মারধর করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন, হুমকি ধমকি দিয়ে আমাদের সাইট দখল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। আজ তারা সংন্ত্রাসী ভাড়া করে দলীয় নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে ৫শ’র ও বেশী সংযোগ দখল করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, কে কোন দল বা কোন রাজনীতি করে সেটা বিবেচ্ছ বিষয় নয়। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেন তারা এ অপকর্ম করবে? আমরা এব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, এর আগেও সন্ত্রাসীরা দিদার মার্কেট এলাকায় আমাদের দুটি সাইটের প্রায় ১২ শত লাইন দখল করে নিয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশের কোন সহযোগিতা পায়নি।

এদিকে এ ঘটনায় সিসিএল ও কেসিটিএন ক্যাবল টিভি নেটওর্য়াক এর পক্ষ থেকে চকবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশ জিডি হিসেবে রের্কড করেছে বলে জানান কেসিটিএন পরিচালক প্রসূন কান্তি নাথ।

আরো সংবাদ