, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

মঙ্গলবার

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০১৮-০৪-১৯ ০৭:২৫:২৮

পাহাড়ে অস্থিরতা সৃষ্ঠিতে একে-৪৭সহ বিপুল ভারী মরনাস্ত্র অস্ত্র

নিউজ ডেস্ক, বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম.

পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সংঘাতসহ অপহরণ-চাঁদাবাজি, গুম-খুন ও সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধিতে অত্যাধুনিক ভারী মরনাস্ত্র সংগ্রহে নেমেছে পাহাড়ের সন্ত্রাসীরা। আঞ্চলিকদলের ছত্রছায়ায় এই সকল সন্ত্রাসী নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠে বর্তমান সময়ে প্রতিদিনই সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছে।

পাহাড়ে বিরাজমান এই সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র ক্রয় করে পার্বত্যাঞ্চলের গহীন অরণ্যে অবস্থানরত এই সকল সন্ত্রাসীদের কাছে পৌছে দিচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দলগুলো।

বিগত কয়েকমাস ধরেই এই চক্রটি পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে অত্রাঞ্চলে বিদেশী ভারী ভারী অস্ত্র-শস্ত্র মজুদ করছে এই ধরনের সুনির্দিষ্ট্য তথ্য নিরাপত্তা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট্য দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানতে পারে। এই ধরনের তথ্য পাওয়ার পরপরই রাঙামাটি সদরের কাপ্তাই হ্রদের ওপারে বালুখালী ইউনিয়নের কাইন্দারমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রাঙামাটি সেনা রিজিয়নের একটি দল। এসময় সেনা সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাদের আস্তানা থেকে অত্যাধুনিক পাঁচটি ভারী অস্ত্র ও ১৬ রাউন্ড তাজাগুলি উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর টিম।

সেনাবাহিনীর রাঙামাটি রিজিয়নের দায়িত্বশীল সূত্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে ০২টি ৭.৬২ মিঃমিঃ এসএমজি, ০১টি এ্যাসল্ট রাইফেল, ০২টি পিস্তল, ১৬ রাউন্ড এ্যামোনিশন, ০২টি এসএমজির ম্যাগাজিন, ০১টি এ্যাসল্ট রাইফেলের ম্যাগাজিন, ০২টি পিস্তলের ম্যাগাজিন ও ০১ টি সিলিং উদ্ধার করা হয়।

রাঙামাটির কোতয়ালী থানার অফিসার সত্যজিৎ বড়ুয়া অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে আমাদের কাছে দিয়েছে, আমরা এগুলোর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রাঙামাটিসহ বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির ভারত ও মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে উলফা ও আরাকান আর্মির মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর সাথে আঁতাত করে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দলগুলো ভারী ভারী বিদেশী অস্ত্র সংগ্রহ করছে। পাহাড়ের বিভিন্ন স্তর থেকে আদায় করা চাঁদাবাজির কোটি কোটি টাকা খরছ করেই এইসব অস্ত্র সংগ্রহ করছে পাহাড়ের সন্ত্রাসীরা। সম্প্রতি পাহাড়ের সাপে-নেউলে থাকা দুটি আঞ্চলিক দল সন্ধিচুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে নিজেদের বিভিন্ন সোর্সকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ করছে। মূলতঃ পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীসহ স্থানীয় সরকারদলীয়দের বিরুদ্ধে আগামী নির্বাচনে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এই সকল অস্ত্রের মজুদ করা হচ্ছে বলে জানতে পারে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। চাঁদা আদায়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট্য উদ্বর্তন কতৃপক্ষের নিকট তাদের রিপোর্ট পেশ করেছে বলে জানাগেছে সংশ্লিষ্ট্য সূত্রে। সম্প্রতি গত এক সপ্তাহে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে আধিপত্য বিস্তারে আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র সংঘাতে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনা গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টই সত্যি প্রমানিত হয়েছে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বশীল একজন উদ্বর্তন অফিসার জানিয়েছেন, যে আগামী নির্বাচনে নিজেদের একক আধিপত্য নিশ্চিত করতে চুক্তির পক্ষের একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পাহাড়ে অস্ত্রের মজুদ করছে এবং ইউপিডিএফ এর সাথে আঁতাত করে তাদেরকে দিয়েই প্রতিপক্ষগ্রুপ গুলোর(এমএনলারমা সমর্থিত জেএসএস ও গনতান্ত্রিক ইউপিডিএফ) নেতাদেরকে বেছে বেছে হত্যা করাচ্ছে। কারন হিসেবে উক্ত কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে নিজেদের মাঠ পরিস্কার করে রাখছে যাতে করে সরকারদল আওয়ামীলীগ ছাড়া উক্ত চুক্তির পক্ষের দলটির সাথে আর কোনো প্রতিপক্ষ নাথাকে। এই লক্ষ্যে পাহাড়ে বর্তমানে সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই ধরনের অবস্থায় বেশ চিন্তিতও হয়ে পড়েছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাগুলো। এরই মধ্যে পাহাড়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। বিভিন্ন ক্যাম্প, থানাসহ ফাঁিড়গুলোতে তাদের ফোর্সদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানিয়েছেন, অস্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাসী এই সকল আঞ্চলিকদলীয় সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করে রেইট দেওয়ার ব্যাপারেও চিন্তা করছি।

আরো সংবাদ