, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

শুক্রবার

বিষয় :

প্রকাশ :  ২০১৮-০৩-২৯ ০৬:৫০:৫৮

সৌদি আরবকে মোকাবিলা করতে হবে টুইন টাওয়ার হামলার আইনি লড়াই

নিউজ ডেস্ক, বঙ্গনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম.

নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার পরিকল্পনায় সহযোগিতা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের শতকোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে করা মামলা চলমান রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক।

ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সৌদি আরব।মামলাটি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে আদালত বরাবর আবেদনও করেছিল দেশটি।

কিন্তু বুধবার ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জর্জ ডেনিয়েলস ওই আবেদন খারিজ করে দেন বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

বাদীদের অভিযোগ ‘সামান্য হলেও যুক্তিসংগত ভিত্তির’ ওপর দাঁড়িয়ে আছে মনে হওয়ায় সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে মামলাটি চলমান রাখার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য ডেনিয়েলসের।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ওই হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আইনী লড়াই থেকে দীর্ঘদিন ধরে দায়মুক্তি পেয়ে আসছিল সৌদি আরব। ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভেটো সত্ত্বেও মার্কিন কংগ্রেসে ‘জাস্টিস এগেইনস্ট স্পন্সরস অব টেররিজম অ্যাক্ট’ (জেএএসটিএ) পাস হওয়ায় ওই দায়মুক্তি বাতিলের সুযোগ তৈরি হয়।

এটি অন্যান্য দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বাহিনী ও কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় ফেলার ঝুঁকি তৈরি করবে বলে সতর্ক করেছিলেন ওবামা।

জেএএসটিএ আইনেই টুইন টাওয়ারে হামলায় সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে করা মামলাটি চলবে বলে জানিয়েছেন বিচারক।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাই করা কয়েকটি যাত্রীবাহী বিমান নিয়ে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (টুইন টাওয়ার) ও পেন্টাগনে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। ওই সময় ছিনতাই করা একটি বিমান পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এসব সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় তিন হাজার লোকের মৃত্যু হয়।

যে ১৯ জন সন্ত্রাসী বিমানগুলো ছিনতাই করেছিল তাদের ১৫ জন ছিলেন সৌদি নাগরিক।

শুরু থেকেই এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সৌদি আরব।

ম্যানহাটনের বিচারকের আদেশ নিয়ে সৌদি সরকারের পক্ষের আইনজীবীদের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন সৌদি আরবের ক্যাপিটাল মার্কেট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ এলকুয়াইজ। নিউ ইয়র্কে সৌদি স্টক মার্কেটের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো খবর দেখেননি বলে জানান।

ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জর্জ ডেনিয়েলসের এ সিদ্ধান্তের আওতায় নিহতদের পরিবারের সদস্য, আঘাতপ্রাপ্ত প্রায় ২৫ হাজার ব্যক্তিসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানিগুলো পড়বে বলেও জানিয়েছে রয়টার্স।

সৌদি আরবের ন্যাশনাল কমার্শিয়াল ব্যাংক ও আল রাজি ব্যাংক এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিন লাদেন গ্রুপ ৯/১১ হামলায় তহবিল ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল, প্রমাণের অভাবে বিচারক এমন অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন।

বিচারক বলেছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার কালভার শহরের কিং ফাহাদ মসজিদের ইমাম ফাহাদ আল থুমাইরি ও কথিত গোয়েন্দা কর্মকর্তা ওমার আল বাইয়োমির সন্দেহভাজন কর্মকাণ্ডের দায় সৌদি আরবের, বাদীপক্ষ এটি প্রমাণ করার চেষ্টা করে দেখতে পারে।

সন্দেহভাজন এই দুই ব্যক্তি দুই ছিনতাইকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে মানিয়ে নিতে ও হামলার পরিকল্পনা শুরু করতে সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে।

সৌদি আরব বলছে, হামলা কিংবা এর পরিকল্পনায় সৌদি কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা এজেন্টের সংশ্লিষ্টতা দেখাতে পারেনি বাদীপক্ষ। এ যুক্তিতে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছিল তারা, কিন্তু আদালত তাতে সাড়া দেয়নি।

আরো সংবাদ